২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরুতেই ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করতে যাচ্ছেন একটি হাইভোল্টেজ লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি জাপানের। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে যে দল জিতবে, তারা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে।
ম্যাচটি নিয়ে ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন পরিসংখ্যান ও ডেটার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের ভবিষ্যদ্বাণী জানিয়েছে ক্রীড়া বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান অপটা (Opta)। তাদের সুপার কম্পিউটারের ২৫ হাজার সিমুলেশনে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট ব্যবধানে বেশি, যা প্রায় ৫৭.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, জাপানের সরাসরি জয়ের সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ এবং ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে (ড্র) গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪.৩ শতাংশ।
গ্রুপ 'সি' থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে পা রেখেছে সেলেসাওরা। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা ধাক্কা খেলেও, পরের দুটি ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে টানা ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম টানা ৭ গোল করার বিপরীতে একটি গোলও হজম না করার চমৎকার ধারাবাহিকতা দেখাল ব্রাজিল।
দলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর ইনজুরি কাটিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরেছেন নেইমার। এই ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়বেন। ব্রাজিলের আক্রমণভাগও রয়েছে চনমনে ফর্মে; মাথেউস কুনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা গোল পাচ্ছেন নিয়মিত। তবে ব্রাজিলের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে তাদের সাম্প্রতিক নকআউট ইতিহাস—শেষ ৬টি নকআউট ম্যাচের ৪টিতেই তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
বিশ্বকপের ইতিহাসে জাপান এখন পর্যন্ত নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। এবার সেই খরা কাটাতে ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে হাজিমে মোরিয়াসুর দল। গ্রুপ 'এফ'-এ নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে ড্র এবং তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ব্লু সামুরাইরা।
দলের দুই প্রধান তারকা ওয়াতারু এন্দো এবং কাওরু মিতোমা ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলেও জাপান দলগতভাবে দুর্দান্ত খেলছে এবং তারা টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত। স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা ইতোমধ্যে ৩ গোল করে জাপানের হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের যৌথ রেকর্ড গড়েছেন।
দুই দলের অতীতের ১৪টি দেখায় ব্রাজিল জিতেছে ১১টি ম্যাচে, ড্র হয়েছে ২টি এবং জাপানের জয় মাত্র ১টিতে। তবে জাপানের সেই একমাত্র জয়টি এসেছিল সর্বশেষ দেখায়, গত অক্টোবরে টোকিওতে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেখানে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল জাপান, যেখানে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন উয়েদাই। তবে বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখায় (২০০৬ সালে) ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে সহজ জয় পেয়েছিল।
কাগজে-কলমে কিংবা সুপার কম্পিউটারের হিসেবে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও, অদম্য জাপান যে সেলেসাওদের তীব্র পরীক্ষার মুখে ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
মন্তব্য করুন