সম্প্রতি তুর্কিয়ে, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান যৌথভাবে 'মেক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স এগ্রিমেন্ট' নামের একটি ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মূল কথা হলো, এই তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির শিকার হলে অন্য সদস্যরাও তা নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে। অনেকটা ন্যাটো জোটের মতো নীতিতে চলা এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নতুন প্রশ্ন, এই সামরিক ছাতার নিচে পরবর্তীতে আর কোন কোন দেশ যুক্ত হতে যাচ্ছে?
মিশরের অন্তর্ভুক্তি কতটুকু সম্ভাব্য?
ন্যাচারাল পার্টনার বা স্বাভাবিক সহযোগী হিসেবে এই জোটে যুক্ত হওয়ার দৌড়ে সবার আগে রয়েছে মিশরের নাম। তুর্কিয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইতোমধ্যে মিশরকে এই জোটে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কায়রো যুক্ত হলে জোটের শক্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির শর্ত ও নিজস্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণে মিশর কিছুটা সাবধানে পা ফেলছে। সামরিক দায়িত্ব ও সম্ভাব্য যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে কায়রো এই সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নিতে পারে। তাছাড়া ওয়াশিংটনের সাহায্য এবং ইসরায়েলের সাথে বিদ্যমান শান্তি চুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কেবল মিশর এমন বাধ্যবাধকতামূলক জোটে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করতে পারে।
উপসাগরীয় ও অন্যান্য দেশের সম্ভাবনা
মিশর ছাড়াও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ এই সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখাতে পারে।
কাতার ও কুয়েত: আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে সামরিক সুরক্ষার জন্য কাতার ও কুয়েত এই জোটে আসতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হতে পারে।
অন্যান্য সম্ভাব্য দেশ: নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, আজারবাইজান, জর্ডান এবং সিরিয়ার মতো দেশগুলোও পরিস্থিতি বিবেচনায় জোটে যুক্ত হওয়ার চিন্তা করতে পারে।
মূলত বিশ্ব রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জটিল সমীকরণে এই নতুন জোট কতদূর বিস্তৃত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন