
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে আজ ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে একাদশ গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ এবং একাদশ থেকে বিংশ গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বেতনকাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন যে মূল বেতন আহরিত বা প্রাপ্য ছিল, তার সঙ্গে নির্ধারিত হারে বাড়তি অর্থ যুক্ত করে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন প্রদান করা হবে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত বেতন পাবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতনকাঠামো সম্পূর্ণ বা শতভাগ কার্যকর হবে। যেহেতু কাঠামোটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বকেয়া বেতনও হাতে পাবেন।
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু মূল বেতন নয়, আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় অন্যান্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী ব্যক্তিরাও নতুন এই বেতনকাঠামোর সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এর আগে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা এই সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করেছিল।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও পর্যালোচনার পর কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার এই ঐতিহাসিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করল। এর মাধ্যমে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কাজের গতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।