
রাজনৈতিক দল কিংবা কোনো নেতারই সড়ক, মহাসড়ক, টোল প্লাজা কিংবা সরকারি ভবন দখল করে রাখার কোনো আইনগত অধিকার নেই বলে স্পষ্ট রায় দিয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি)। শুক্রবার প্রকাশিত ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সরদার মুহাম্মদ সরফরাজ ডোগারের নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর বেঞ্চের ৩৭ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা পক্ষকে সংবিধান লঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে লং মার্চ ও রাজপথ অবরুদ্ধ করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এটি একটি কঠোর আইনগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওয়াকাস আহমেদ নামের এক ব্যক্তির করা একটি রিট আবেদনের শুনানির প্রেক্ষিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মূলত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর পরিকল্পিত লং মার্চ ও এর ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ এবং নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আইনি লড়াই শুরু হয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অতীতে ২০২২ সালের মে এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে পিটিআইয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও লং মার্চ ইসলামাবাদে মারাত্মক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করে তোলে।
রায়ে আদালত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, কোনো দল বা গোষ্ঠী নাগরিকদের অবাধ চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। রায়ে বলা হয়েছে,
কোনো রাজনৈতিক দল, প্রাদেশিক সরকার বা সরকারি পদধারীর ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরির ভেতরে বা বাইরে সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখল করার অধিকার নেই। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনকারীকে সংবিধান লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
আদালতের রায়ে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, বরং প্রাদেশিক সরকারগুলোর ভূমিকার ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফেডারেশনের কোনো ইউনিটের বিরুদ্ধে অন্য কোনো ইউনিট বা প্রাদেশিক সরকারের যেকোনো আগ্রাসী লং মার্চ, মিছিল বা সমাবেশকে সম্পূর্ণ 'অসাংবিধানিক, বেআইনি ও আইনবিরুদ্ধ' বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামাবাদমুখী কোনো লং মার্চে অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা দিতে কোনো ধরনের সরকারি যানবাহন, যন্ত্রপাতি বা অন্য কোনো সম্পদ ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোনো সরকারি কর্মচারীকেও এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা যাবে না।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই রায় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে আন্দোলন ও প্রতিবাদের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির বিরুদ্ধে একটি মাইলফলক নির্দেশিকা হয়ে উঠতে পারে। আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইসলামাবাদ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, রাজধানী এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক দল রাজপথ অবরুদ্ধ করার কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি জটিলতার মুখোমুখি হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।