
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তমা খাতুন (২০) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি ভেড়ামারা উপজেলার ফকিরাবাদ বখশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। প্রথম বাক্য থেকেই স্পষ্ট যে, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির একটি গুরুতর চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গোলাপনগর বাজারের একটি পার্লার থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তমাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। স্থানীয়দের ধারণা, অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে চার থেকে পাঁচ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে রাত ১২টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বখশীপাড়ার একটি নির্জন মোড়ে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার চরম শোকাহত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। তমার মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, তমার ওপর অত্যন্ত নির্মম ও পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে অপহরণের পরদিনই নিহতের মা কাজলী খাতুন বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরিবার দাবি করছে, প্রায় দেড় মাস আগে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া সাবেক স্বামী আবু বক্কর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে নিহত তমার সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও তরুণীদের ওপর এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যুর পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।