|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

মেট্রোরেলে রেকর্ড যাত্রী ও আয়, বাড়ছে ঋণ পরিশোধ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়

0 শেয়ার
ঢাকার মেট্রোরেল চলাচলের দৃশ্য ও যাত্রী সাধারণ।
ঢাকার মেট্রোরেল চলাচলের দৃশ্য ও যাত্রী সাধারণ।
ছবি: ফাইল ছবি / ঢাকা স্টোরি
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত মেট্রোরেলে ৩১ কোটি ৩৫ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছে।
  • দিনে যাত্রীসংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি পৌঁছালেও ঋণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে।
  • ট্রেনের সংখ্যা ও সময় বাড়িয়ে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমটিসিএল।

ঢাকার মেট্রোরেলে যাত্রীসংখ্যা আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রকল্পের প্রাক্কলিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে। চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩১ কোটি ৩৫ লাখের বেশি যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করেছেন এবং চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর এক দিনে সর্বোচ্চ প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বা ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিট বিক্রির আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যু: এমপি নজরুল ও তার স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে প্রথম মেট্রোরেল চালুর পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো পথে চলাচল শুরু হয়। বর্তমান সময়ে উত্তরা, মিরপুর, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মতিঝিলের মতো ব্যস্ত রুটগুলোতে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান ও নির্ভরযোগ্য বাহন হয়ে উঠেছে এই দ্রুতগতির গণপরিবহন। বিশেষ করে যানজট এড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ থাকায় নগরবাসীর মধ্যে মেট্রোরেলের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভবে বাড়ছে। মতিঝিল স্টেশনটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানামা করা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যাত্রী বৃদ্ধির বিষয়ে ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত লোকবল নিশ্চিত হওয়ায় এখন পর্যায়ক্রমে রাতের ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং দুই ট্রেনের মধ্যকার বিরতির সময়ও কমিয়ে আনা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পূর্ণ সক্ষমতায় ট্রেন চালালে টিকিট বিক্রি থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে। এছাড়া কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা পৌনে সাত লাখে উন্নীত হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

আর্থিক চ্যালেঞ্জ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ

যাত্রীসংখ্যা ও আয় বাড়লেও মেট্রোরেলের অর্থনৈতিক সমীকরণটি বেশ জটিল। এমআরটি ৬ প্রকল্পে জাইকার কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকার ঋণ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষে ২০২৩ সাল থেকে সীমিত আকারে কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে এবং ২০৩০ থেকে ৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি কিস্তি দিতে হবে। এর পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং পরিচালন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, মেট্রোরেলের আয় বাড়াতে হলে ট্রেনের সংখ্যা ও চলাচলের সময় বাড়ানোর পাশাপাশি অযৌক্তিক খরচ কমাতে হবে। নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ায় ভাড়া না বাড়িয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোর বাণিজ্যিক ব্যবহার ও সেবার পরিধি বাড়ানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকিটের পাশাপাশি স্টেশনের অব্যবহৃত জায়গা বাণিজ্যিক বরাদ্দ এবং পার্কিং সুবিধা কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ডিএমটিসিএল। আগামী দিনে ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয় ও ঋণের চাপ সামাল দিয়ে মেট্রোরেল পরিচালনাকে টেকসই করা কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।