টানা বর্ষণ আর বন্যার মতো বৈরী পরিস্থিতি উপেক্ষা করে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। সোমবারের পরীক্ষায় চরম ভোগান্তির শিকার হওয়ার পর আজ রাস্তায় নেমে এসেছেন পরীক্ষার্থীরা। এর সাথে যোগ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষামন্ত্রীর একটি কথিত অডিও, যেখানে শিক্ষার্থীদের "ফার্মের মুরগি" বলে সম্বোধন করা হয়েছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। এই অপমান ও একদফা দাবিতে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন।
আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রথমে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের দিকে রওনা হন। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সামনে পুলিশ তাদের মিছিলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে শিক্ষার্থীরা বাধা পেরিয়ে পলাশী হয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন।
সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা পুনরায় সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ফিরে এসে সড়ক অবরোধ করেন। বিকেল পৌনে ৪টা থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা সায়েন্স ল্যাবে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।
বোর্ডের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা কোনো কথা না বলেই সেখান থেকে চলে আসেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান।
এদিকে সায়েন্স ল্যাবের পাশাপাশি ঢাকার উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে দুপুরের পর থেকে দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেলা ১২টা থেকে সড়ক বন্ধ থাকায় পুরো এলাকার দুই পাশেই যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
একই সাথে ইসিবি চত্বরের দুই পাশেও রাস্তা আটকে আন্দোলন চলছে। ফলে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী মহাসড়কসহ এর আশেপাশের সংশ্লিষ্ট সব রাস্তায় তীব্র ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে এবং সাধারণ নাগরিকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, দেশজুড়ে চলমান খারাপ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতাকে তোয়াক্কা না করেই সোমবার জোরপূর্বক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বের হয়েও অনেকে সঠিক সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি।
এর ওপর নতুন করে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি কল রেকর্ড। বিএএফ শাহীন কলেজের একজন পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বললেও চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ আমাদের কষ্টের দিনে তিনি নাকি টেলিফোনে আমাদের "ফার্মের মুরগি" বলে উপহাস করেছেন। এই ধরনের অপমানজনক বক্তব্যের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে এবং অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
রাস্তায় অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা এখন "তুমি কে আমি কে, ফার্মের মুরগি", "দফা এক দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ" সহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তুলছেন।
মন্তব্য করুন