
ইরান তাদের প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি এবং সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং এমন কিছু নতুন সমরাস্ত্র ময়দানে নামানো হবে যা দেখে গোটা বিশ্ব বিস্মিত হয়ে যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এই কৌশলগত পরিবর্তন আনছে তেহরান। এতদিন ধরে প্রতিরক্ষা ও আক্রমণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সীমার মধ্যে থাকলেও, এখন সেই নীতি থেকে সরে আসছে দেশটির সামরিক বাহিনী। মোহেব্বি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও আর আগের মতো সীমাবদ্ধ থাকবে না। পূর্বে আঘাত হানা হয়নি এমন বহু নতুন কৌশলগত স্থানকে এবার তাদের নিশানার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি এবং সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং এমন কিছু নতুন সমরাস্ত্র ময়দানে নামানো হবে যা দেখে গোটা বিশ্ব বিস্মিত হয়ে যাবে। - হোসেন মোহেব্বি, মুখপাত্র, আইআরজিসি
এদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে ওড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোনকে সফলভাবে বাধা দিয়ে আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোনগুলো বিপুল সংখ্যায় হারানোর পর বাধ্য হয়ে অবসরপ্রাপ্ত এমকিউ-১ ড্রোন পুনরায় যুদ্ধে নিয়োজিত করেছে। আইআরজিসির নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই দুই ধরনের মার্কিন ড্রোনকেই ধারাবাহিকভাবে শিকার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন বিমানবাহিনী ২০১৮ সালে এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে পাঠিয়েছিল।
আরও পড়ুন: নতুন অস্ত্রে অবাক হবে বিশ্ব: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইআরজিসির হুঁশিয়ারি
বর্তমান এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সুরক্ষায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ধরনের ঘোষণা এবং নতুন সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল এলাকায় সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এই ঘটনা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।