
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার যে উদ্যোগ বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত দেড় দশকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং কার্যকারিতা খতিয়ে দেখাতেই এই পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিগত সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন গোপন বা একপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে দেশের ভেতরে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ট্রানজিট, জ্বালানি, বন্দর ব্যবহার এবং প্রতিরক্ষা খাতের বেশ কিছু চুক্তি জনস্বার্থের অনুকূলে ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন বিগত সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এই কমিটি প্রতিটি চুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে সেগুলোর সংস্কার, পুনর্নির্ধারণ বা বাতিলের সুপারিশ করবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি দুই দেশের জনগণের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। তবে কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে যদি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সংশোধনী বা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব আসে, তবে তা নিয়ে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ভারতের নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে, কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই পর্যালোচনার প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা আমলের চুক্তি পর্যালোচনার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব চুক্তিতে দেশের সার্বভৌমত্ব বা অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে এর ফলে ঢাকা ও দিল্লির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তবে উভয় দেশের পক্ষ থেকেই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তিগুলোর আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো খতিয়ে দেখছে কোন চুক্তিগুলো দেশের স্বার্থে বজায় রাখা প্রয়োজন এবং কোনগুলোতে পরিবর্তন আনা দরকার। আগামীতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে এই বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার এজেন্ডায় স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।