বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে শেয়ারের দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার সার্কিট ব্রেকারসহ বাজার পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি স্বাধীনভাবে নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
বুধবার (১ জুলাই) অনুষ্ঠিত কমিশনের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা অনুযায়ী সার্কিট ব্রেকার সীমাসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন মাপকাঠি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের আইনি এখতিয়ার ডিএসই ও সিএসইর রয়েছে। এ কারণে প্রযোজ্য প্রবিধান, নীতিমালা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার আলোকে এসব মাপকাঠি স্বাধীনভাবে নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের জন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিএসইসির এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে শেয়ার বাজারের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বা স্বাভাবিক নিয়মে সার্কিট ব্রেকারের সীমা কত হবে, তা নির্ধারণ করতে কমিশনের অনুমতির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এতদিন পুঁজিবাজারে কোনো শেয়ারের দাম একদিনে সর্বোচ্চ কত শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে (যা সার্কিট ব্রেকার নামে পরিচিত), তা মূলত বিএসইসি নির্ধারণ করে দিত। অনেক সময় বাজারের পতন ঠেকাতে বা অস্বাভাবিক উত্থান রুখতে কমিশন থেকে ফ্লোর প্রাইস বা বিশেষ সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হতো। তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল দায়িত্ব থাকে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন:
এর মাধ্যমে দেশের প্রধান দুই স্টক এক্সচেঞ্জের স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের স্ট্যান্ডার্ড বা মানদণ্ডের সাথে দেশের পুঁজিবাজারের মিল তৈরি হবে।
যেকোনো বাজার পরিস্থিতি বা বৈশ্বিক সংকটে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ইতিবাচক। স্টক এক্সচেঞ্জগুলো স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বাজারে কৃত্রিম হস্তক্ষেপ কমে আসবে, যা একটি স্বাভাবিক ও গতিশীল বাজারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই স্বাধীনতার পাশাপাশি ডিএসই ও সিএসইকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থে এই নিয়মগুলোর অপব্যবহার করতে না পারে।
কমিশনের এই নতুন নির্দেশনার পর দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কীভাবে তাদের নতুন প্রবিধানমালা সাজায় এবং সার্কিট ব্রেকার নিয়ে কী ধরনের পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন