চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতার বিরুদ্ধে নারী কর্মীর আনা অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। দলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন ও চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্যসচিব সাদিয়া আফরিনকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এনসিপি। তবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে মূল অভিযোগকারী সানজিদা সুলতানা ইভার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে দলটি।
গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা ও তদন্ত কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, দুই নেতার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তবে ভবিষ্যতে সাংগঠনিক শিষ্টাচার ও অধিকতর দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে এস এম সুজা উদ্দিনকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই এমন গুরুতর ও মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করার অপরাধে মূল অভিযোগকারী সানজিদা সুলতানা ইভাকে এনসিপি এবং এর আওতাধীন সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিরত থাকার (স্থগিত) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ জুন চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপির নারী কর্মী সানজিদা সুলতানা ইভা অভিযোগ করেছিলেন, গত ১৪ জুন জিইসি মোড়ের পেনিনসুলা হোটেলের রুফটপ বারে রাজনৈতিক পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সুজা উদ্দিন তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং ‘ডিল অর ডেথ’ বলে ভয়ভীতি দেখান। এই ঘটনায় ১৭ জুন চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন তিনি।
তবে এই অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা দাবি করে গত ২১ জুন চট্টগ্রামের একটি আদালতে ইভাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আফরিন। আদালত বর্তমানে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। দলীয় তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও প্রকৃত সত্য ও ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সাদিয়া আফরিন।
মন্তব্য করুন