সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে পরিবারের তিনজনের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন, তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার এবং তাদের ছেলে ফরহাদ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনন্তপুর গ্রামে নিহতদের একটি টিনশেড মুদি দোকান ছিল। সোমবার বিকেলে হঠাৎ করেই ওই দোকানের টিনের চালের ওপর একটি জীবন্ত বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে পড়ে। যেহেতু দোকানটি পুরোপুরি টিনের তৈরি ছিল, তাই মুহূর্তের মধ্যেই পুরো কাঠামো বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দোকান বিদ্যুতায়িত হওয়ার পরপরই ভেতরে থাকা ছেলে ফরহাদ সবার প্রথমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। চোখের সামনে ছেলেকে ছটফট করতে দেখে তাকে বাঁচানোর জন্য বাবা নুরুল আমিন দ্রুত এগিয়ে যান। এ সময় তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে আটকে যান। এরপর স্বামী ও ছেলেকে বাঁচাতে মা ফাতেমা আক্তারও সেখানে ছুটে গেলে তিনিও মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। কালক্ষেপণ না করে তাদের অবিলম্বে পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং নিহতদের সুরতহাল ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন