বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মরণব্যাধি ক্যানসার মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এর পেছনে কাজ করছে একটি নীরব ঘাতক ‘অকাল বার্ধক্য’। আমেরিকার ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া বিশাল জনগোষ্ঠীর শরীর তাদের প্রকৃত বয়সের চেয়েও দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে।
জৈবিক বয়স ও ক্যানসারের সম্পর্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানুষের বয়স দুইভাবে দেখা হয়। একটি হলো ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী ‘ক্রোনোলজিক্যাল এজ’ এবং অন্যটি শরীরের ভেতরকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও কর্মক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ বা জৈবিক বয়স। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান তরুণদের এই দুই বয়সের মধ্যে ব্যবধান যত বাড়ছে, তাদের মধ্যে ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র এবং বিশেষ করে অন্ত্রের (কোলন) ক্যানসারের ঝুঁকি ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দ্রুত জৈবিক বয়স বৃদ্ধির মূল কারণসমূহ গবেষকদের মতে, তরুণদের শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধানত জীবনযাত্রার অনিয়ম দায়ী:
স্থূলতা: অল্প বয়সেই ওজন বেড়ে যাওয়া শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
অকাল বয়ঃসন্ধি: সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধি শুরু হওয়া শরীরের জৈবিক ঘড়ির ভারসাম্য নষ্ট করছে।
দীর্ঘস্থায়ী রোগ: ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ এখন অনেক কম বয়সেই মানুষের শরীরে বাসা বাঁধছে।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা: শরীরের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষাব্যবস্থা প্রকৃত বয়সের তুলনায় দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে, ফলে ক্যানসার কোষ দানা বাঁধার সুযোগ পাচ্ছে।
পরিসংখ্যানের উদ্বেগজনক চিত্র ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৫০ বছরের কম বয়সীদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার ২৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়াদের মধ্যে ৪ গুণেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি তরুণ প্রজন্মকে তাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা নিয়ে পুনরায় ভাবার আহ্বান জানিয়েছে। অকাল বার্ধক্য রোধ করতে পারলে এবং জৈবিক বয়স নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে ক্যানসারের এই ভয়াবহ ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন