মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে এবার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সমাজ থেকে মাদকের বিষবাষ্প দূর করতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পাশাপাশি মাদক কারবারিদের তথ্য দিলে নগদ অর্থ পুরস্কারের এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন জুয়া এবং মাদক প্রতিরোধের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তথ্যদাতাকে নগদ পুরস্কার ও গোপনীয়তার নিশ্চয়তা বাউফলকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ড. মাসুদ স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন, "যে কোনো ব্যক্তি যদি মাদক কারবারির সঠিক তথ্য প্রদান করেন, তবে তাকে আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।"
জনমনে ভীতি দূর করতে তিনি একই সঙ্গে নিশ্চিত করেন যে, তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
'নিয়ন্ত্রণ' নয়, 'নির্মূল' চাই
মাদক নিয়ে প্রচলিত সরকারি নীতির সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য এক নতুন চিন্তার দ্বার উন্মোচন করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে তিনি জাতীয় সংসদে 'মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর'-এর পরিবর্তে 'মাদক নির্মূল অধিদপ্তর' গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করেছেন।
তার মতে, "মাদক 'নিয়ন্ত্রণ' করার অর্থ হলো পরোক্ষভাবে এর ক্রয়-বিক্রয় চালু রাখা, যা অনেক সময় ভেতরের সিন্ডিকেট দ্বারাই পরিচালিত হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মাদক পুরোপুরি 'নির্মূল' করা, যাতে দেশে কোনো মাদক কারবারিরই অস্তিত্ব না থাকে।"
সামাজিক আন্দোলনের ডাক
তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ড. মাসুদ দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ ফিরোজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐকমত্য পোষণ করেন।
মন্তব্য করুন