দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ দণ্ডাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার দিন সকালে এস কে সুরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং সাজা ঘোষণার পর তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত ১৫ জুলাই দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে আসামির সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা প্রার্থনা করা হয়, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার তাঁর খালাস চেয়েছিলেন।
আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারিতে সহযোগিতা ও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে অবসরে যাওয়া এই সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে একই বছরের মার্চে দুদকে তলব করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে এস কে সুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎস দাখিলের নোটিশ জারি করে দুদক। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করলেও, নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তা দাখিল করেননি।
নির্ধারিত সময়ে হিসাব না দেওয়ায় একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর এস কে সুর, তাঁর স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন। এরপর ২৫ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ৬ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত মোট সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
মন্তব্য করুন