শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা ঘাপটি মেরে বসে আছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, "এই চক্রটি সুকৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য বেশ সক্রিয়। তারা নানাভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।" তবে সরকার ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
চিকিৎসক সমাবেশে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। টমাস আলভা এডিসনের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ (Prevention is better than cure) এই নীতিতে বিশ্বাস করে।
স্বাস্থ্য খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকারের নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো:
বাজেট বৃদ্ধি: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা।
জনবল নিয়োগ: নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতন করতে দেশজুড়ে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ।
অবকাঠামো উন্নয়ন: প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা।
ডিজিটালাইজেশন: দেশের নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে খুব দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালু করার উদ্যোগ।
সমাবেশে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছরে উন্নীত করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছরে বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন।
এসব দাবিকে ‘অযৌক্তিক নয়’ বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, "ইতোমধ্যেই ঢাকার বাইরে বেশ কিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যান্য প্রস্তাবগুলোও ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।"
রাজনীতিতে পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শিক্ষক, চিকিৎসক বা পেশাজীবীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়। তবে, অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন কখনোই নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সমাবেশের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এলডি হল প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন