বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে রেকর্ড ভাঙা অতিভারী বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। আজ ৭ জুলাই (মঙ্গলবার) পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বর্ষা মৌসুমের সর্বোচ্চ রেকর্ড। টানা এই ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
টানা বৃষ্টির ফলে নগরের আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, চান্দগাঁও, চকবাজারের তেলেপট্টি গলি এবং কাট্টলীর ঈশান মহাজন সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানি থৈ থৈ করছে রাস্তাঘাটে, এমনকি বহু নিচু এলাকার বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ঘরের আসবাবপত্র ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি নিম্নচাপের তীব্রতার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসহ দেশের অন্য বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও সতর্ক করেছে যে, এই বৃষ্টির ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ নিচু এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া বিভাগ।
মন্তব্য করুন