জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারণে নজিরবিহীন বৈষম্য এবং নিজেদের নির্ধারিত সময় কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে সংসদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আজ সোমবার (২৯ জুন) এক ব্রিফিংয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জামায়াতের সংসদ সদস্য (MP) নাজিবুর রহমানসহ জোটের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের এমপি নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, গতকাল সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য রাখার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট করে কেটে নেওয়া হয়েছে। যেখানে তাদের মাত্র তিনজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেখানে সরকারদলীয় সদস্যদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দিতে ওঠেন, তখন তাঁর নির্ধারিত ৪০ মিনিট সময়কে বাড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় কথা বলতে দেওয়া হয়েছে। রাত ১০টা পার হয়ে যাওয়ার পরও সরকারি দলের সদস্যদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যকার পূর্ববর্তী আলোচনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
সংসদে বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়ে এবং কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলে নাজিবুর রহমান আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বিলগুলো পড়ার এবং আপত্তি উত্থাপন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও কাগজপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারকে নিয়ম বানিয়ে প্রতিদিন নতুন বিল এনে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হচ্ছে। এছাড়া পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে কথা বলতে না দেওয়ার ঘটনাটিকেও তারা ওয়াকআউট করার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। জোটের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ জানান, সংসদে যদি জনগণের কথা বলার ন্যায্য সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে সেখানে থাকার কোনো অর্থ হয় না। জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তাদের এই সোচ্চার ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন