বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। দায়িত্বশীল সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।
ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায় ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে এই সংক্রান্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনের ভেতরের খবর অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধান নিজেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। দায়িত্ব ছাড়ার পর কিছুদিন বিশ্রামে থাকা কিংবা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
রাষ্ট্রপতির পদ খালি হলে পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আগে বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের নাম উঠে আসলেও, সম্প্রতি নতুন একটি নাম সামনে এসেছে।
বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা এক সচিবের নাম আলোচনায় বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থার কারণেই মূলত এই নাম বিবেচনার টেবিলে এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের নীতি নির্ধারকেরা আরও আলোচনা করবেন। কারণ পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পরিচালনা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা বিবেচনা করেই এই পদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী পদ শূন্য হলে বেশ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
সাময়িক দায়িত্ব: সংবিধানের ৫০(৩) ও ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পদটি ফাঁকা হলে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার সাময়িকভাবে দায়িত্ব সামলাবেন।
ভোট ও মেয়াদের নিয়ম: সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ খালি হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। তখন বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার গঠনের পর স্বাভাবিক উপায়েই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘটনা ঘটলে তা দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোতে আরেকটি বড় পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন