টানা দুই মাস ধরে সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে তার নিজস্ব রূপ। মানুষের কোলাহল আর নৌযানের বিকট শব্দ না থাকায় সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি কাজ করছে। শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ পেয়ে বাঘ এবং হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
চলতি জুলাই মাসে বনের পাঁচটি আলাদা স্থানে অন্তত আটটি বাঘের দেখা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বনকর্মীরা। বনের ভেতরে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরা এবং টহল দলের ভিডিওতে একাধিক বাঘের সাঁতার কেটে নদী পার হওয়া ও খোলামেলা হেঁটে বেড়ানোর দৃশ্য উঠে এসেছে। এমনকি দুটি ছোট ছানাকে সঙ্গে নিয়ে নদী পার হওয়ার বিরল দৃশ্যও প্রত্যক্ষ করেছেন বনরক্ষীরা। বাঘের পাশাপাশি হরিণের পালকেও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
বন বিভাগ জানায়, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ফলে উজানের পানি এসে বনের নদী-খালের লবণাক্ততা কমিয়ে দিয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে প্রবেশে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। মানুষ না থাকায় স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে প্রাণীদের। এছাড়া গত এক বছরে বন থেকে প্রচুর পরিমাণ হরিণ শিকারের ফাঁদ অপসারণ করা হয়েছে। হরিণের সংখ্যা ও নিরাপদ যাতায়াত বাড়ায় বাঘের আনাগোনাও দৃশ্যমান হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যপ্রাণী সবসময় মানুষের স্পর্শ এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে। মানুষকে দূরে রেখে বনকে মাঝে মাঝে এমন বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন। এই ধারা অব্যাহত রাখলে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আরো অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা গেলে বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং প্রাণীদের আবাস্থল সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।
মন্তব্য করুন