ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে নামল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচটা শেষমেশ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা, চার উইকেটে, চার বল হাতে রেখে। কিন্তু জয়টা মোটেই সহজ ছিল না। বাংলাদেশ শেষ বলের আগ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় ছিল, মাথা নত করেনি।
টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল খারাপ। মারিজান কাপ প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিলেন, দ্বিতীয় ওভারে শাবনিম ইসমাইল আরেকটি। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ২৩ রানে ২ উইকেট পড়ে দলটি চাপে। সেই চাপ থেকে বাংলাদেশকে মাথা তুলে দাঁড় করালেন শার্মিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়লেন তাঁরা। সোবহানা ৪৮ বলে ৪২ রান করলেন, কিন্তু স্ট্রাইক রেটটা তুলতে পারলেন না। শার্মিন ২২ করে ১৫তম ওভারে নোনকুলুলেকো মলাবার বলে বোল্ড হলেন। শেষে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ২০ বলে ৩২ রান করে দলকে ১১৭-এ পৌঁছে দিলেন। লর্ডসের ভালো উইকেটে ১১৭ মোটেই যথেষ্ট ছিল না, তবু বাংলাদেশ হাল ছাড়েনি।
জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মারুফা আক্তার প্রথম বলেই লরা উলভার্দটের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা শূন্য রানে এক উইকেট। এরপর ট্যাজমিন ব্রিটস ও অ্যানেরি ডের্কসেন মিলে ৫২ রানের জুটিতে দলকে বিপদ থেকে টানলেন। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিবারই ফিরে আসছিল, একটার পর একটা উইকেট তুলে নিচ্ছিল। ডের্কসেন ৪৫ করে ফিরলেন, কাপ রান আউট হলেন অহেতুক ঝুঁকি নিয়ে, নাদিন ডি ক্লার্কও গেলেন। নাহিদা আক্তার ২৪ রানে দুটি উইকেট নিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে টানটান রাখলেন। শেষ ওভারে ক্লো ট্রাইঅন দক্ষিণ আফ্রিকাকে পারে পৌঁছে দিলেন।
ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনালের ভাগ্য নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারতের ম্যাচের ওপর। অস্ট্রেলিয়া জিতলে প্রোটিয়ারা সেমিফাইনালে, ভারত জিতলে নেট রানরেটের হিসাবে ছিটকে পড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের এই মঞ্চে দারুণ একটা লড়াই শেষ হলো, কিন্তু পরের রাউন্ডের স্বপ্ন আর নেই।
মন্তব্য করুন