দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Mrinmoy Rahman
প্রকাশ : Jun 29, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

স্বপ্নের বাজেট, বাস্তবের পরীক্ষা, জবাবদিহি না থাকলে লক্ষ্য ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকবে

বাংলাদেশ এখন একটা কঠিন সময় পার করছে। চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীর প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা, রাজস্ব ঘাটতি, খেলাপি ঋণ, ব্যাংকে তারল্যসংকট আর জ্বালানি সমস্যা একসঙ্গে চেপে ধরেছে অর্থনীতিকে। এই ভারী বাস্তবতার মধ্যেই ঘোষণা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি নামানোর প্রতিশ্রুতি ৭.৫ শতাংশে, রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্য ১৮.২ শতাংশের বেশি। সংখ্যাগুলো দেখলে আশা জাগে। কিন্তু সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন প্রশ্ন তুলছেন, এই লক্ষ্যগুলো কি আসলেই অর্জনযোগ্য?

বিদায়ী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪.১৪ শতাংশ। এক অর্থবছরে সেখান থেকে ৬.৫ শতাংশে পৌঁছাতে হলে বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিতে একসঙ্গে বড় উল্লম্ফন দরকার। অথচ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি বিনিয়োগ এক দশকের বেশি সময় ধরে একটি জায়গায় আটকে। মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও একই কথা। বিদায়ী অর্থবছরে জুলাই থেকে মে পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৩ শতাংশ। ফাহমিদা খাতুন বলছেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখন আর কেবল মুদ্রানীতির বিষয় নয়, এটি কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানি খরচ, বিনিময় হারের ওঠানামা ও বাজারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অদক্ষতা মিলিয়ে মূল্যস্ফীতিকে ধরে রাখছে। কেবল সুদের হার বাড়িয়ে এই আগুন নেভানো যাবে না।

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যটিও বেশ ভারী। এক দশক ধরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, বিদায়ী অর্থবছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর বেশি নির্ভর করলে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ চাপে পড়বে। আর বৈদেশিক অনুদান কমতে থাকায় ভবিষ্যতে ঋণনির্ভরতা আরও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি গভীর ঝুঁকি।

বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এর সুফল পেতে হলে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। ড. ফাহমিদা খাতুনের মূল বক্তব্য হলো, বাজেটটি একটি আশাবাদী পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কাঠামোগত সংস্কার, শক্তিশালী রাজস্ব প্রশাসন, সুশাসন ও বেসরকারি খাতের আস্থা ফেরানো ছাড়া বাজেটের লক্ষ্যগুলো কাগজেই থেকে যাবে। প্রতিটি টাকা যেন দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব ফল আনে, সেটি নিশ্চিত করতে জবাবদিহির কোনো বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাইয়ের আগেও ভোট চুরি হয়েছিল, পরেও হয়েছে: হাসনাত

1

জমজমের পানি ও গোলাপজলে ধোয়া হলো পবিত্র কাবা শরিফ

2

ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেনকে সরাল সরকার, নতুন দায়িত্বে আনিছুর

3

সালাতুত তাসবিহ: তাসবিহ গণনায় ভুল হলে শরিয়তের বিধান কী?

4

এমপি আতাউর রহমান বাচ্চুকে সতর্ক করল জামায়াতে ইসলামী

5

বৃহস্পতিবার আসছে এলপিজি গ্যাসের নতুন দাম: জানুন বিস্তারিত

6

অ্যানথ্রপিকের ‘মিথোস’ এআই, প্রাচীন মিথ এবং দাজ্জাল:অদৃশ্য সু

7

যন্ত্রপাতি সংকটে অচল নীলফামারীর ১১ কোটির বর্জ্য শোধনাগার

8

সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গুলশান থেকে গ্রেপ্তার | Former MP Nu

9

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরি কত হলো জেনে নিন

10

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো.

11

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

12

বড় কেলেঙ্কারিতে মেসিদের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন! তদন্তে নামল মার্

13

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ: হাসানুল হক ই

14

বিশ্বকাপ ২০২৬: গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে নকআউটের নতুন সমীকরণ

15

কোরআন তিলাওয়াত সুন্দর ও শুদ্ধ করবেন যে ৪ উপায়ে

16

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে কারাগারে সাবে

17

মানবতাবিরোধী অপরাধে একরাম হত্যা: এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রা

18

লর্ডসের অনার্স বোর্ডের পর এবার এমসিসির আজীবন সদস্য তামিম ইকব

19

১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদী বন্দরে সতর্ক সং

20