দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হলো বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের জাতীয় কাউন্সিল, দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
১১ জুলাই শনিবার রাত ৮টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর এটি দলটির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় সভা। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন মির্জা আব্বাস।
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলীয় প্রতীকবিহীন আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। অধিকাংশ সদস্যই চলতি বছরের শেষ দিকে এই নির্বাচন শুরুর পক্ষে মত দেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট মাস বা সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এছাড়া দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ-সংগঠনের কমিটিগুলো ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছেন সদস্যরা। একই সাথে চলতি বছরের শেষ দিকে দলের ‘জাতীয় কাউন্সিল’ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকে বিগত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসন এবং স্বাবলম্বী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে নেতাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস দেখে নয়, বরং যোগ্যতা বিবেচনা করেই মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং বেকারত্ব হ্রাস ও খাল পুনঃখননের মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী দিনে কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন