নতুন করে ঘুষ গ্রহণের এই অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা যায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, ভূমি কর্মকর্তা সরোয়ার তার ব্যক্তিগত কক্ষের চৌকির ওপর বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে নগদ অর্থ নিচ্ছেন। টাকা হাতে নেওয়ার পর তিনি নিজের দাপ্তরিক চেয়ারে গিয়ে বসেন। এ সময় তাকে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেবাগ্রহীতাকে বলতে শোনা যায়, "এক মাসের মধ্যে কাজ কমপ্লিট করে দেওয়া হবে।"
'মানবিক কারণে' অর্থ গ্রহণ! এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তার দাবি, অফিসে নগদ অর্থে সরকারি ফি নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই ঠিকই, তবে যারা অনলাইনে ফি দিতে পারেন না, তাদের তিনি 'মানবিক কারণে' সাহায্য করেন।
তার ভাষ্যমতে, নিজের ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের সরকারি ফি পরিশোধ করে দেন। ভিডিওতে গ্রহণ করা অর্থ সেই সরকারি ফি-রই অংশ বলে তিনি দাবি করেন! তবে ভিডিওটি ঠিক কবে বা কখন ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত বিষয়টি ইতোমধ্যেই নজরে এসেছে স্থানীয় প্রশাসনের। নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "আমি ভিডিওতে থাকা সবাইকে চিনতে না পারলেও, ভিডিওটি দেখেছি। এ বিষয়ে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সিরিজ দুর্নীতি? উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলায় এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর ঠিক কয়েকদিন আগেই জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের গুনে গুনে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে গত রোববার প্রশাসন তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়।
পরপর দুজন ভূমি কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে কতটা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ডাঙ্গী ইউনিয়নের অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কত দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়।
মন্তব্য করুন