বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন ও সত্যিকারের জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সব পক্ষকে নিয়ে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই আহ্বান জানান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নিজেদের অতীতের রাজনৈতিক ভুলত্রুটি অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা অতীতে অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে যতটা মনোযোগ দিয়েছি, মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে ততটা সফল হতে পারিনি। তবে এখন আর ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। দেশের মানুষের কল্যাণে সব ধরনের বৈষম্য দূর করা এবং প্রতিহিংসামুক্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি চর্চা করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে, তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈষম্য দূর করার মূল দায়িত্বও তাদের। একই সাথে দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার ছাড়া দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দেশের অর্থনৈতিক বাজেট প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছাড়া বড় বাজেট বাস্তবায়ন করা কঠিন, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও মনে করে।
স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা সুস্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, কোনো দলের সাথে শত্রুতা করায় নয়। আগামী দিনে দেশের মানুষের স্বার্থে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারকে বিদ্যুৎ খাতের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়া দেশের বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে দ্রুত ত্রাণ তৎপরতা বাড়ানো ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
উক্ত স্মরণসভায় জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে যুব সংহতির পক্ষ থেকে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয় এবং এর আগে কাকরাইলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এরশাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন