ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ ৫ জুলাই (রোববার) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় তাঁর সন্তানদের অংশ নিতে দেখা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এই জানাজায় খামেনির ছেলে মাসুদ, মেইসাম এবং মোস্তফা অংশ নেন। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার হুমকি ও নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কারণে খামেনির আরেক ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই জানাজায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমদ ভাহিদিও জানাজায় শরিক হন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশের অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি এই জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি এজেই এবং আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি উপস্থিত ছিলেন।
আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানায়, জানাজা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লার প্রধান চত্বর লাখো মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে বিশাল শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর খামেনির মরদেহ ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার দাফনের জন্য পুনরায় ইরানের মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে আনা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন