চলুন জেনে নেওয়া যাক সকালের নাস্তায় কোন ৭টি ভুল আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত:
সকালের নাস্তায় পর্যাপ্ত ফাইবার না রাখা একটি বড় ভুল। ওটস, ফলমূল এবং হোল গ্রেইনের মতো খাবার বাদ দিলে শরীরে দ্রবণীয় ফাইবারের ঘাটতি দেখা দেয়। ফাইবার পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তা শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। ফাইবার কম থাকলে দ্রুত ক্ষুধা পায় এবং স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়।
সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি, ডোনাট এবং মিষ্টি জাতীয় বেকারি খাবার খেতে সুস্বাদু হলেও এগুলোতে পুষ্টিগুণ খুবই কম থাকে। এগুলো দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত পরিশোধিত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট খেলে ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
সসেজ বা বেকনের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস সকালের নাস্তায় বেশ জনপ্রিয় হলেও এগুলো হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এগুলোতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
সকালের টোস্ট বা অন্যান্য খাবারে অতিরিক্ত মাখন ও ঘি ব্যবহার করা উচিত নয়। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। প্রতিদিন অতিরিক্ত মাখন বা ঘি খেলে তা ধীরে ধীরে রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে।
খাবার যতই পুষ্টিকর বা স্বাস্থ্যকর হোক না কেন, অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা উপকারের বদলে ক্ষতিই বেশি করে। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়, যা উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের সরাসরি কারণ হতে পারে। পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করা এবং পরিমিত আহারের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
শুধু কার্বোহাইড্রেট নির্ভর নাস্তা (যেমন শুধু টোস্ট বা ফল) খেলে পেট বেশিক্ষণ ভরা থাকে না। ফলে দিনের পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। নাস্তায় পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকলে তা পেশির স্বাস্থ্য ভালো রাখে, শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়।
অনেকেই খাবারের দিকে নজর দিলেও পানীয়ের ক্ষেত্রে ভুল করে বসেন। সকালের নাস্তায় চিনিযুক্ত কফি, প্যাকেটজাত ফলের রস বা ফ্লেভারযুক্ত মিল্কশেক পান করা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। প্যাকেটজাত ফলের রসে প্রচুর কৃত্রিম চিনি থাকে এবং ফলের আসল ফাইবারটুকু থাকে না, যা শরীরে পুষ্টির বদলে শুধু অতিরিক্ত ক্যালরিই যুক্ত করে।
মন্তব্য করুন