জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিগত সরকারের আমলের ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থপাচারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ভয়াবহ চিত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। শ্বেতপত্রের রিপোর্টের বরাত দিয়ে তিনি জানান:
গত ১৫ বছরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে লোন স্ক্যাম ও রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দখলের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
মেগা প্রজেক্টের নামে ব্যয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে জনগণের টাকা লুট করা হয়েছে।
কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোকে আইনি মোড়কে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের তদন্তের তাগিদ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত ১৮ মাসের অস্থির সময়ে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুদকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, যেকোনো ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
বাজেটের দর্শন ও লক্ষ্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘এ বাজেট অব নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এবারের বাজেট জনকল্যাণমুখী। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ট্যাক্স না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে এই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুরের উন্নয়নের মডেল ও জোসেফ স্টিগলিৎসের অর্থনৈতিক তত্ত্বের আলোকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন