নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এই লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে হবে। সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহণ ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
সমাজের গভীরে প্রোথিত বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, পরিবার ও সমাজে ছেলে সন্তানের প্রতি অযৌক্তিক অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা দূর করতে হবে। পরিবারের কল্যাণে নারীরা নিজেদের সব স্বার্থ ত্যাগ করে দিনরাত পরিশ্রম করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা অপুষ্টি ও বৈষম্যের শিকার হন। নারীদের প্রতি এ ধরনের অশোভন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কন্যাশিশুদের কল্যাণে আরও সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য একটি দক্ষ পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রয়োজন সাপেক্ষে এই ককাসের মাধ্যমে নারী ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার যৌক্তিক সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন