টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ১৪ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িকভাবে বন্যা ও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী পাঁচ দিনে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও যাদুকাটা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এসব নদীর নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
দেশের অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে, তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬ মিলিমিটার এবং টেকনাফে ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংস্থাটি নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিবিড়ভাবে সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।
মন্তব্য করুন