দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখার যে নির্দেশনা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, তা এক মাসের মাথায় বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে লেখা এবং অন্যটি তারেক রহমানের রচনা। সোমবার (৬ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এই নির্দেশনা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) দেওয়া এক নির্দেশনায় দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে এই তিনটি বইয়ের একটি করে সেট সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। বই তিনটি হলো জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত মাহফুজ উল্লাহ রচিত ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’ ও ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং তারেক রহমান রচিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী জানিয়েছিলেন, মন্ত্রণালয়ের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন মন্ত্রণালয় নির্দেশনা বাতিল করায় সে অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে এ ধরনের বই রাখার বিষয়ে শিক্ষাবিদরা ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে শুধু একটি রাজনৈতিক ধারার নেতাদের নয়, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে লেখা বই থাকা উচিত।’
তার মতে, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বইগুলো সহায়ক পাঠ্য হিসেবে থাকতে পারে, তবে এর পাশাপাশি মওলানা ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, চার জাতীয় নেতাসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের বইও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রকাশিত নির্দিষ্ট কিছু বই ও উপকরণ সংরক্ষণের জন্য একাধিকবার একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যা সে সময় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে সমালোচিত হয়েছিল।
মন্তব্য করুন