বর্তমান সময়ের অন্যতম ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘কিশোর গ্যাং’। ১২ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোরদের ছোট ছোট দল মিলে গড়ে উঠেছে এই ভয়ংকর গ্যাং কালচার। যে বয়সে তাদের পড়ার টেবিলে বা খেলার মাঠে থাকার কথা, সেই বয়সেই তারা জড়িয়ে পড়ছে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। সামান্য তর্কবিতর্ক থেকে শুরু হচ্ছে সংঘর্ষ, মারামারি, এমনকি খুনোখুনির মতো ঘটনা। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন এদের অবাধ বিচরণ।
কিশোরদের বিপথে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রভাব বিস্তারের নোংরা রাজনীতি। স্থানীয়ভাবে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে অনেকেই অল্প বয়সী কিশোরদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের বলয়ে টেনে নিচ্ছে। চুরি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে অস্ত্র ব্যবহারের মতো ভয়ংকর অপরাধেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে তাদের ‘প্রশিক্ষিত ক্যাডার’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যা সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত। এর ফলে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ন্যূনতম কলেজ পর্যায় পর্যন্ত সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। স্কুল-কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের নৈতিক শিক্ষা প্রদানে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং পরিবারকেও সন্তানদের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
পাশাপাশি প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আজকের কিশোররাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের ধ্বংসের পথে না ঠেলে দিয়ে, দেশ গঠনের শক্তিতে পরিণত করতে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন