দেশীয় ঐতিহ্য, পোশাক, খাবার ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘বিসিক বর্ষা মেলা-২০২৬’। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে মতিঝিলের বিসিক ভবন প্রাঙ্গণে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। একই ছাদের নিচে ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি থেকে শুরু করে মাটির গহনা ও হরেক রকমের গ্রামীণ খাবারের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
রোববার (৫ জুলাই) মেলার প্রথম দিনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় আসা নারীদের প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী জামদানি ও সিল্কের শাড়ির স্টলগুলো। ‘আরিয়ান জামদানি হাউজ’-এর স্বত্বাধিকারী শামসুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাঁদের নিজস্ব কারখানায় দক্ষ কারিগরদের দিয়ে তৈরি এসব জামদানি মেলায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মেলার প্রথম দিনেই ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
পোশাকের পাশাপাশি ভোজনরসিকদের জন্য মেলায় রয়েছে দেশীয় খাবারের বৈচিত্র্যময় সমাহার। ‘যমযম ফুড প্রোডাক্টস’-এর স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নারকেল ভাজা, তিলের খাজা, খাঁটি ঘি, শনপাপড়ি ও তিলের নাড়ুর মতো জিভে জল আনা সব ঐতিহ্যবাহী খাবার, যেখানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মেলাতে নজর কাড়ছে মাটির ও কাঠের তৈরি পরিবেশবান্ধব গহনা এবং গৃহসজ্জার সামগ্রী। ‘বাংলার টেরাকোটা’ স্টলের এক কর্মী জানান, মাত্র ১০০ টাকায় প্রতি জোড়া কাঠের চুড়ি এবং ২০০ টাকায় আকর্ষণীয় গহনার সেট বিক্রি করছেন তাঁরা। এছাড়া মেলায় স্থান পেয়েছে হাতে তৈরি চামড়ার জুতো, পাট ও কাপড়ের তৈরি ব্যাগ, নান্দনিক শোপিস, ভেষজ খাবার এবং সুন্দরবনের খাঁটি মধু।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মো. আল আমিন বলেন, “ব্যস্ত শহরে সচরাচর এমন মেলার দেখা মেলে না। দেশীয় সংস্কৃতির এত চমৎকার সব পণ্য একসঙ্গে এক জায়গায় পাওয়া সত্যিই দারুণ ব্যাপার।” আরেক দর্শনার্থী কামরুজ্জামানের মতে, অনেক হারিয়ে যাওয়া বা অপরিচিত দেশীয় পণ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এই মেলা, যা বিসিকের একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
মন্তব্য করুন