আমেরিকার সিয়াটেল স্টেডিয়ামে বসেছিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ 'জি'-এর এক শ্বাসরুদ্ধকর নাটকের মঞ্চ। মিশর বনাম ইরানের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। আর এই একটি পয়েন্টই মিশরের ফুটবলে নিয়ে এসেছে এক ঐতিহাসিক মহেন্দ্রক্ষণ। ১৯৩৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ ৯২ বছর পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট (রাউন্ড অব ৩২) পর্বে পা রাখলো ফারাওরা।
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল ঝড়ের গতিতে। খেলা শুরুর মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় মিশরের মহাতারকা মোহাম্মদ সালাহ-র চমৎকার পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মাহমুদ সাবের। তবে মিশরের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ইরান। মাত্র ১৪ মিনিটের মাথায় রামিন রেজাইয়ান এক দুর্দান্ত কোণাকুণি শটে গোল করে ইরানকে সমতায় ফেরান।
প্রথমার্ধেই ইরান এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তাদের তারকা ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমির নেওয়া পেনাল্টি শট চমৎকারভাবে রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই ছিল সমানে সমান। ম্যাচের শেষ দিকে তারেমির একটি হেড বারে লেগে ফিরে আসে এবং অতিরিক্ত সময়ে (৯৩ মিনিটে) শুজা খলিলজাদেহের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে ইরান নিশ্চিত জয় থেকে বঞ্চিত হয়। এই নাটকীয় মুহূর্তগুলোর বিস্তারিত জানা যাবে আল জাজিরার মূল ম্যাচ রিপোর্টে।
এই ড্রয়ের ফলে ৩ ম্যাচ থেকে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'জি'-এর রানার্স-আপ হিসেবে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে মিশর। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই ড্র করে (নিউজিল্যান্ডের সাথে ২-২, বেলজিয়ামের সাথে ০-০ এবং মিশরের সাথে ১-১) ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে শেষ করলো ইরান।
ইরানের নকআউটে যাওয়ার ভাগ্য এখন আর তাদের নিজেদের হাতে নেই। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ২৪টি দলের মধ্যে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল রাউন্ড অব ৩২-এ যাবে। ইরান বর্তমানে সেই তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে। পরবর্তী গ্রুপগুলোর ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে টিম মেল্লি পরের রাউন্ডে যাচ্ছে কি না।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বেলজিয়াম। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের জোড়া গোল এবং কেভিন ডি ব্রুইনের দারুণ পারফরম্যান্সে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে পা রেখেছে রেড ডেভিলরা। অন্যদিকে এই হারের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই শেষ হলো।
মিশরের এই ঐতিহাসিক অর্জন দেশটির ফুটবল ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে, অপরদিকে ম্যাচ শেষে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় ইরানি খেলোয়াড়দের। সিয়াটেলের মাঠে ফুটবল ভক্তরা আজ একই সাথে দেখলো ইতিহাস সৃষ্টি আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাস।
মন্তব্য করুন