আজকাল প্রযুক্তির দুনিয়ায় কখন কী ভাইরাল হয় তা বলা মুশকিল। সম্প্রতি গুগল সার্চ ইঞ্জিনে একটি অদ্ভুত বিষয় নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা গুগলে গিয়ে ‘চোরের দলের ফুটবল খেলা কবে’ কিংবা ‘চোর দলের খেলা কবে’ লিখে সার্চ করলেই সবার সামনে ভেসে উঠছে ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তি আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচের সময়সূচী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনাটি এখন রীতিমতো টক অব দ্য টাউন।
অনেকেই হয়তো ভাবছেন, গুগল কি কোনো দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামে ডাকছে? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। এটি গুগলের কোনো অফিসিয়াল নামকরণ বা ভুল নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সার্চ অ্যালগরিদমের কারসাজি।
আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ফুটবল দলের সমর্থকরা আর্জেন্টিনাকে ব্যঙ্গ করতে ট্রোল, মিম, ভিডিও এবং ক্যাপশনে ‘চোরের দল’ বা ‘চুরের দল’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন। যখন হাজার হাজার মানুষ একই ধরনের ট্রোল পোস্ট করতে থাকেন, তখন গুগলের সার্চ ইঞ্জিন সেই নির্দিষ্ট কি-ওয়ার্ডের সঙ্গে আর্জেন্টিনা দলের ম্যাচকে মিলিয়ে নেয়। ফলে কেউ ‘চোরের দল এর খেলা কবে’ অথবা ‘চোরের দলের খেলা কবে ?’ লিখে সার্চ করলেই আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচের তথ্য সামনে চলে আসছে।
এই ট্রোলের সূত্রপাত কিন্তু আজকের নয়, এর পেছনে জড়িয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসের ৪০ বছর পুরোনো এক বিখ্যাত ও বিতর্কিত ম্যাচ। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে ফুটবলের ঈশ্বর দিয়াগো ম্যারাডোনা হাত দিয়ে একটি গোল করেছিলেন, যা ফুটবল বিশ্বে 'হ্যান্ড অব গড' নামে পরিচিত।
যদিও সেই ম্যাচেই তিনি অর্ধেক মাঠ একা ড্রিবলিং করে ইতিহাসের সেরা গোলটিও (গোল অব দ্য সেঞ্চুরি) করেছিলেন, তবে ওই বিতর্কিত হাতের গোলের কারণে প্রতিপক্ষ সমর্থকরা আজ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলে। আর সেই পুরোনো বৈরিতাই এই বিশ্বকাপে নতুন করে রূপ নিয়েছে।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড আবারও সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই পুরোনো সেই বিতর্ক নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। আর এই সুযোগে বিপক্ষ দলের সমর্থকরা ইন্টারনেটে ‘ফুটবলে চোরের দলের খেলা কবে’ কিংবা ‘চোর এর দলের খেলা কখন?’ লিখে সার্চ করে মজা নিচ্ছেন।
তবে মনে রাখা জরুরি, এটি সম্পূর্ণভাবেই একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের রসিকতা বা ট্রোল। ফিফা বা অফিশিয়াল কোনো রেকর্ডের সাথে এর দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। তাই গুগলের এই সার্চ রেজাল্টকে কেবলই একটি সাময়িক ইন্টারনেট ট্রেন্ড বা মজার ট্রোল হিসেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
মন্তব্য করুন