ফেনীর ফুলগাজীতে নিজ ঘরে হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় কাজল আক্তার (৩৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৭ জুন) ভোরে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত কাজল ওই এলাকার কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী।
দুর্বৃত্তরা ঘরের টিনের চালা কেটে ভেতরে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের সময় ঘরের ভেতরেই নিহত ওই নারীর তিন বছরের একটি শিশু ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল।
যেভাবে উদ্ধার হলো লাশ নিহতের ভাশুর ইসমাইল হোসেন জানান, ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে তিনি কাজলের ঘর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান। এরপর দরজায় কড়া নেড়ে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে তার ডাকে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা পাশের একটি বাড়ি থেকে দেখতে পান যে, কাজলের ঘরের টিনের ছাদের ওপরের অংশ কাটা। এরপর তারা ভেতরে ঢুকে কাজলের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশ উদ্ধারের সময় ওই নারীর হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা এবং মুখে স্কচটেপ লাগানো ছিল। মাথায় ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করার ফলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
জায়গাজমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ নিহত কাজলের বাবা রশিদ আহমদ পাটোয়ারী জানান, প্রায় ১৭ বছর আগে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই তার জামাতা বিদেশে পাড়ি জমান। তিনি জানান, জায়গাজমি নিয়ে কাজলের সঙ্গে তার ভাশুরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তবে এর বাইরে অন্য কোনো শত্রুতা ছিল কি না, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলছে পুলিশ ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, "ঘরের আলামত দেখে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, এটি নিছক কোনো চুরি বা ডাকাতির ঘটনা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।" এই ঘটনার আসল রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এরই মধ্যে জোর তদন্ত শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন