|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

যুদ্ধের মেঘ কাটবে কি? ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন কাঠামোগত চুক্তি সই

0 শেয়ার
যুদ্ধের মেঘ কাটবে কি? ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন কাঠামোগত চুক্তি সই
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবানন কাঠামোগত চুক্তি সই করেছে।
  • কিন্তু হিজবুল্লাহ এই চুক্তির বাইরে তাহলে কি শান্তি আসবে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। কয়েক দফা আলোচনার পর শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এই চুক্তি সই হয়। উভয় পক্ষই এটিকে দীর্ঘ সংঘাত নিরসনের পথে 'প্রথম ধাপ' হিসেবে বর্ণনা করেছে।

সাত দিনে হরমুজ প্রণালি খোলার প্রস্তাব ইরানের, যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র

অনুষ্ঠানে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার মার্কিন প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় নথিতে সই করেন। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

রুবিওর ঘোষণা, আউনের প্রত্যাশা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দিয়ে বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে। 'মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন'-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি জাতিসংঘের সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, এই চুক্তির ফলে বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে পারবেন এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে আর কোনো সমান্তরাল শক্তির উপস্থিতি থাকবে না। তাঁর কাছে এই চুক্তি কেবল একটি কাগজ নয়, বরং একটি বিধ্বস্ত দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।

হিজবুল্লাহ বাইরে, নেতানিয়াহু অনড়

এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। ফলে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তারা যোদ্ধা সরিয়ে নেবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। গোষ্ঠীটির প্রধান নাইম কাসেম স্পষ্ট জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।

চুক্তি সইয়ের পরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা দখল করে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

১০ লাখ মানুষের অশ্রু, বাস্তুহারা লেবাননে

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ২,৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক উভয়ই রয়েছেন। দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরও বেশি, অর্থাৎ ১০ লাখের বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বৈরুতের ধ্বংসস্তূপে যাঁরা একদিন ঘর বেঁধেছিলেন, তাঁদের চোখে এখনও অনিশ্চয়তার ছায়া।

চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

এই প্রাথমিক চুক্তিটি এতটাই অস্পষ্ট যে বিভিন্ন পক্ষ এর দুই রকম ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারে। বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আগামী ৬০ দিনের আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হওয়াটাও নির্ভর করছে একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনে সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমলেও লেবাননের আকাশে শান্তির পাখি কখন ফিরবে  সেই প্রশ্নের জবাব এখনও অধরা।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।