সিলেটের বিয়ানীবাজারে প্রেমের সম্পর্ক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার দায়ের কোপে রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) নামে এক বিবাহিত কিশোরী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা আবু বক্কর পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজের সময় রিয়া বাড়ির থালাবাসন ধোয়ার জন্য পুকুরঘাটে যান। সে সময় তার বাবা আবু বক্কর সেখানে গিয়ে ধারালো দা দিয়ে মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আঘাতে রিয়ার ডান হাতের কবজি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন আহমদ (২২) নামে এক যুবকের সঙ্গে রিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে প্রায় এক বছর আগে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করেন রিয়া। তবে শ্বশুরবাড়িতে বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের তিন-চার মাস পর পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে তিনি ইনাম গ্রামে নানাবাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
দিন-দুয়েক আগে রিয়া আবারও প্রেমিক শাহিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পালানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বাবা ও স্বজনরা তাকে ফিরিয়ে আনেন। স্থানীয়দের ধারণা, নিজের পরিবার ও শ্বশুরবাড়িতে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার ক্ষোভ থেকেই বাবা আবু বক্কর মেয়েকে হত্যার মতো এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছেন। অভিযুক্ত আবু বক্কর পেশায় একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।
বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছবেদ আলী জানান, প্রেমঘটিত বিরোধ ও পারিবারিক ক্ষোভের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন