চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর ম্যাচ অফিসিয়ালদের পক্ষপাতমূলক ও ‘অন্যায্য’ রেফারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর দাবি, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জেতাতে ফিফার ‘ফেয়ার প্লে’ নীতিকে মাঠে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত নকআউট পর্বের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল মিশর। ম্যাচে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও শেষ পর্যন্ত হারের মুখ দেখতে হয় তাদের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মিশরীয় কোচ অভিযোগ করেন, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের সুবিধা দিতে ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে একপেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হোসাম হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছি এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে সবদিক থেকে মাঠে সেরা ছিলাম।” রেফারিকে প্রভাবিত করতে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
মিশরের কোচের মতে, ম্যাচে নিশ্চিত একটি পেনাল্টি থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের দেওয়া দ্বিতীয় গোলটি সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বাতিল করেন রেফারি। তিনি যোগ করেন, “আমরা এই ম্যাচে জয় পাওয়ার যোগ্য ছিলাম, কিন্তু আমরা গর্ব নিয়ে মাঠ ছাড়ছি। কারণ সেখানে কোনো ফেয়ার প্লে বা পারস্পরিক সম্মান ছিল না। রেফারিংয়ের ভুলগুলো না হলে ম্যাচের ফলাফল আজ অন্যরকম হতো।”
ম্যাচ অফিসিয়ালদের পাশাপাশি ফিফার ম্যাচ শিডিউলিং নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসান। আটলান্টার কড়া রোদের মাঝে দুপুর ১২টায় ম্যাচ আয়োজন করায় ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, যারা এই সূচি তৈরি করেছেন তারা ফুটবল বোঝেন না।
তবে হারের হতাশার মাঝেও নিজের দলের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে গর্বিত হাসান। আরব বিশ্ব ও আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি জানান, তাঁর দল এই অভিজ্ঞতা থেকে আরও পরিপক্ব হয়ে উঠবে। ম্যাচ শেষে তিনি মাঠেই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের মুখোমুখি হয়ে তাঁর ‘অন্যায্য’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান এবং ক্ষোভের চোটে টুর্নামেন্টের আর কোনো ম্যাচ না দেখার ঘোষণাও দেন।
মন্তব্য করুন