পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বা ইউসিবি রাইট শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ৭৭৫ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পেয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি এক সভায় এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিজেদের মূলধন শক্তিশালী করতে এবং ব্যাংকিং ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এই টাকা ব্যবহার করবে ব্যাংকটি।
নিয়ামক সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউসিবির বর্তমান শেয়ারহোল্ডাররা তাদের কাছে থাকা প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে (ফেস ভ্যালু) একটি করে রাইট শেয়ার কেনার সুযোগ পাবেন।
শেয়ারবাজারে সাধারণত রাইট শেয়ার ছাড়ার মূল উদ্দেশ্য থাকে বিনিয়োগকারীদের কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়া। তবে ইউসিবির ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন।
বর্তমানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইউসিবির সাধারণ শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে ৯ টাকা দরে। অর্থাৎ, বাজারের বর্তমান দামের চেয়ে রাইট শেয়ারের প্রস্তাবিত দাম ১ টাকা বেশি। গত এক বছরের মধ্যে ব্যাংকটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৮ টাকা ৪০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১১ টাকা ৮০ পয়সায়।
বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে শেয়ার ছাড়ার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই রাইট শেয়ার কিনতে কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রচলিত কোম্পানি আইনে বিশেষ ছাড় দিয়ে ১০ শতাংশ কম দামে শেয়ার বিক্রির নিয়ম থাকলেও, বর্তমান সিকিউরিটিজ আইনে এই সুযোগটি নেই।
বিনিয়োগকারীরা যদি এই রাইট শেয়ার না কেনেন, তবে কী হবে? বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই শেয়ার কেনা বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ইচ্ছা।
যদি কোনো শেয়ার অবিক্রীত থেকে যায়, তবে সেই সব শেয়ার ১০ টাকা দরেই কিনে নেওয়ার গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিয়েছে আন্ডাররাইটার বা দায়গ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউসিবির এই রাইট ইস্যুর আন্ডাররাইটার হিসেবে কাজ করছে রূপালী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের মালিকানাধীন চারটি মার্চেন্ট ব্যাংক। আন্ডাররাইটারদের এই লিখিত প্রতিশ্রুতির কারণেই বিএসইসি এই রাইট শেয়ারের অনুমোদন দিয়েছে।
ইউসিবি মূলত গত বছরের পর্ষদ সভায় রাইট শেয়ারের মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর পাশাপাশি কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে আলোচনার মাধ্যমে আরও ৭৭৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির একটি নীতিগত পরিকল্পনাও ছিল তাদের। বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা এই সিদ্ধান্তের অনুমোদনও দিয়েছিলেন।
ব্যাংক সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাইট শেয়ারের অনুমোদন মেলায় তাদের মূলধন সংগ্রহের অর্ধেক লক্ষ্য পূরণ হলো। তবে কৌশলগত বিনিয়োগকারী খোঁজার ক্ষেত্রে এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে, একই কমিশন সভায় ব্লু-ওয়েলথ নামের একটি সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিকে ৩০ কোটি টাকা মূল্যের একটি নতুন বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন