বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ফাস্ট বোলিং কোচ শন টেইট অবশেষে নিজের পদত্যাগ নিয়ে মুখ খুলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই দুর্দান্ত গতি তারকা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার এই সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া কোনো বিষয় ছিল না। বেশ কিছুদিন ধরে চিন্তাভাবনা করার পরেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। মূলত নিজের পরিবারকে আরও বেশি সময় দেওয়ার তাগিদ থেকেই তিনি বিসিবির কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
অনেকের কাছেই তার এই চলে যাওয়াটা কিছুটা অদ্ভুত মনে হতে পারে। কেউ কেউ ভাবতে পারেন যে তিনি হয়তো দলকে মাঝপথে ফেলে চলে গেছেন কিংবা ভক্তদের মনে কষ্ট দিয়েছেন। তবে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার পর টেইট বুঝতে পেরেছেন, এই মুহূর্তে তার পরিবারের পাশে থাকাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
একটি সাক্ষাৎকার চলাকালীন তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়াতে তার আট বছর বয়সী একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বড় হয়ে ওঠার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবা হিসেবে তার পাশে থাকা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে বছরের প্রায় ১০ মাসই তাকে বাড়ির বাইরে কাটাতে হতো। এই দীর্ঘ সময় পরিবারের বাইরে থাকাটাই তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। তিনি আরও যোগ করেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আসলে কোনো সময়ই পারফেক্ট হয় না। তবে এর মানে এই নয় যে তিনি ক্রিকেট বা কোচিং জগৎ থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন।
বিসিবির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে কোনো বিকল্প আলোচনার সুযোগ ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই পেসার বলেন যে বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছিল। তিনিও আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে টেইট জানান, বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে কাজ করার সুযোগ তার সামনে সব সময়ই খোলা রয়েছে। তবে এখন তিনি এমন কোনো দায়িত্ব নিতে চান, যেখানে পুরো বছর জুড়ে ব্যস্ত থাকতে হবে না। বিশেষ করে শুধু টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডের মতো যেকোনো একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট নিয়ে কাজ করাই এখন তার প্রথম পছন্দ। মেয়ের বয়স যদি আরও বেশি হতো, তাহলে হয়তো তিনি আন্তর্জাতিক কোচের দায়িত্বে থেকে যেতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি বাবার দায়িত্বকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি টেইটের কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই। তিনি জানান, বাংলাদেশে সব সময়ই ক্রিকেট এবং প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন বা প্রক্রিয়া চলমান থাকে। দেশের সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের ছোঁয়া ক্রিকেট বোর্ডেও লেগেছে। তবে বিসিবির সাথে তার দারুণ সময় কেটেছে। বোর্ড তার প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক ছিল এবং সেখানকার ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের সাথে তার সম্পর্কও বেশ চমৎকার ছিল। মূলত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই চাকরিটি ছেড়েছেন।
মন্তব্য করুন