ফল স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য হলেও এটি খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে মানুষের মধ্যে বিতর্কের শেষ নেই। কেউ মনে করেন খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো, আবার কারও মতে খাবারের পর ফল খেলে হজমে সমস্যা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন নানা তথ্য ঘুরে বেড়ালেও পুষ্টিবিজ্ঞান আসলে কী বলে, তা জানা জরুরি।
একটি প্রচলিত ধারণা হলো, খাবারের পর ফল খেলে তা পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে এবং পচে গিয়ে গ্যাস বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের পাকস্থলী প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট একসঙ্গে হজম করার জন্য তৈরি। তাই খাবারের সঙ্গে বা পরে ফল খেলে তা পেটে পচে যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এটি পুষ্টি শোষণেও কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।
যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য খাবারের আগে ফল খাওয়া বেশি ফলদায়ক হতে পারে। ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পানি থাকে, যা দ্রুত পেট ভরার অনুভূতি দেয়। ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাবারের আগে ফল খান, তারা মূল খাবারের সময় তুলনামূলক কম ক্যালরি গ্রহণ করেন। ফাইবার ধীরে ধীরে হজম হয় বলে দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি বজায় থাকে।
ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফল খাওয়ার নিয়মে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফল যেকোনো সময় খাওয়া নিরাপদ। তবে মাঝারি বা উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফলের ক্ষেত্রে তা মূল খাবারের পর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে। অন্যদিকে, যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) রয়েছে, তারা ফল খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি বা ফাঁপা ভাব অনুভব করতে পারেন। তবে এটি খাওয়ার সময়ের চেয়ে ফলের ধরন ও পরিমাণের ওপর বেশি নির্ভর করে।
পুষ্টিবিদরা ফলকে একা না খেয়ে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। উদাহরণস্বরূপ, আপেলের টুকরোর সঙ্গে পিনাট বাটার বা টক দইয়ের সঙ্গে বেরি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই সংমিশ্রণ পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ‘পারফেক্ট’ সময় নেই। আপনি কখন খাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাচ্ছেন কি না। ঘড়ির কাঁটা ধরে নয়, বরং আপনার শরীর যেভাবে ভালো থাকে সেভাবেই নিয়মিত গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
মন্তব্য করুন