আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অধ্যায়টি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই ঘোষণা দিয়েছেন। তুরস্কের আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটোর বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আর কোনো ধরনের আলোচনা বা চুক্তি করার সুযোগ নেই।
ট্রাম্প ইরানের শীর্ষ নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তারা অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং সহিংস মানসিকতার মানুষ। তাদের হাতে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে তারা সেটি ব্যবহার করতেও দ্বিধা করত না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো সংলাপের চেষ্টা করা মানে স্রেফ সময় নষ্ট করা, কারণ তারা তাদের দেওয়া কথা ধরে রাখে না।
এই ঘোষণার ঠিক আগের রাতেই দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সামরিক সংঘাত তৈরি হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ইরানের ভেতরে অন্তত ৮০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই তালিকায় ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডসের ৬০টির বেশি নৌযান, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর জবাবে ইরানও চুপ করে বসে থাকেনি। তারা বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তেহরানের দাবি, তারা আমেরিকার ৮৫টি আস্তানায় আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে তারা আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমেরিকার এই আকস্মিক হামলা গত মাসে হওয়া দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তির চরম লঙ্ঘন। তেহরানের প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, আমেরিকা বারবার ইরানের তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে এবং তাদের জলসীমায় হস্তক্ষেপ করছে। ফলে এই চুক্তি ধরে রাখার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
অন্য দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, ইরান মুখে এক কথা বলে আর কাজের বেলায় অন্য কিছু করে। তিনি জানান, মার্কিন আলোচক দল এখনো শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন তার নিজের হাতে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ইরানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ইতি টানার পক্ষেই মত দিয়েছেন। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও হুট করে অনেকটা বেড়ে গেছে।
মন্তব্য করুন