রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান কেবল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই সম্ভব। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপ বাড়াতে কাজ করছে সরকার। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান যে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি মিয়ানমারের বর্তমান জান্তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট অন্য সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর অন্যান্য প্রক্রিয়া নিয়েও কাজ চলছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের সঠিক তথ্য যাচাইয়ের কাজ নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এর পাশাপাশি তৃতীয় কোনো দেশে তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার রোহিঙ্গা সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য পূরণে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক—সব ক্ষেত্রেই জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ চালানো হচ্ছে।
তিনি অতীতে বিএনপির সফলতার উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় সফল কূটনৈতিক পদক্ষেপের কারণেই তৎকালীন রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছিল এবং আশ্রয়প্রার্থীরা নিজ দেশে ফিরে যেতে পেরেছিল। বর্তমান সরকারও সেই সফল নীতি অনুসরণ করে একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থাগুলোর সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR), জাতিসংঘ নারী সংস্থা (UN Women) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তারা সেখানে মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
পাশাপাশি চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এর ফলে রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের মানবিক সহায়তা আরও বাড়বে বলে আশাপ্রকাশ করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বজনমতকে এই সংকটের সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
একই সাথে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো দূর করতে এবং এই নিপীড়নের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ নৈতিক সমর্থন বজায় থাকবে বলে স্পষ্ট জানান প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন