দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরে ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএস অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিকস’-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত থেকে ট্রাম্পের আয় প্রায় ১২০ কোটি ডলার।
আয়ের উৎস ও স্টার্টআপ ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবার ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্স’ (ডব্লিউএলএফ) নামের একটি ক্রিপ্টো স্টার্টআপের সহপ্রতিষ্ঠাতা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ও তাঁর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পরিবারের সদস্যরা মিলে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। শুধু ২০২৫ সালেই ডব্লিউএলএফ-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে ট্রাম্প প্রায় ৫৫ কোটি ডলার আয় করেছেন।
এছাড়া, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ‘ডলার ট্রাম্প’ নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ছাড়া হয়। নথির তথ্য অনুযায়ী, এই ক্রিপ্টোকারেন্সির লাইসেন্স চুক্তি বাবদ তিনি ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার রয়্যালটি হিসেবে পেয়েছেন।
সম্পদ বৃদ্ধির চিত্র মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিপ্টো খাত থেকে আসা এই বিপুল আয়ের ফলে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পত্তি প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৩০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ৬৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্বার্থের সংঘাত ও হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া ক্রিপ্টো শিল্পে ট্রাম্পের এই ব্যাপক বিনিয়োগ ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিলের উদ্যোগ নিয়ে সমালোচকরা ‘স্বার্থের সংঘাত’-এর অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ট্রাম্পের নীতিগত পদক্ষেপের কারণেই ডিজিটাল মুদ্রার দাম এত দ্রুত বেড়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। উপ-প্রেসসচিব আনা কেলি এক বিবৃতিতে জানান, ট্রাম্প বা তাঁর পরিবার কোনো স্বার্থের সংঘাতের সঙ্গে জড়িত নন। মার্কিন জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে পরিণত করার পদক্ষেপ নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন