চীনের সঙ্গে আকাশ ও নৌপথে সপ্তাহব্যাপী এক বিশাল যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই মহড়া সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি অন্য কোনো দেশ বা অঞ্চলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, চীনের চিংদাও শহরের জলসীমা ও আকাশসীমায় শুরু হওয়া এই মহড়া মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা কারও বিরুদ্ধে উসকানি সৃষ্টি করার জন্য নয়। বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতে দুই মিত্র দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই যৌথ মহড়ায় রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর থেকে অত্যাধুনিক ক্রুজার, করভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং উদ্ধারকারী জাহাজ অংশগ্রহণ করছে। আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই মহড়া চলবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে আকাশ ও নৌপথে নানা কৌশলগত মহড়া চালানো হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুশ সামরিক কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের মহড়া মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত সহযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের এই যৌথ পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন