চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্সকে স্তব্ধ করে দিল স্পেনের দুর্দান্ত ফুটবল। ডালাসে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে ফরাসিদের ২-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল স্প্যানিশরা। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলা ফ্রান্সের আক্রমণভাগ এদিন স্পেনের জমাট ডিফেন্সের সামনে একদমই সুবিধা করতে পারেনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। ম্যাচের ২২ মিনিটে বড় সুযোগ আসে তাদের সামনে। ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে স্পেনের উইঙ্গার ইয়ামালকে ডি-বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধে এই ১-০ ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় ফরাসি ডিফেন্স ভেঙে গোলটি করেন তিনি। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল ফ্রান্সের জালে আরও একবার বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
গোটা টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ত্রাস সৃষ্টি করা কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা মাইকেল ওলিসেরা এই ম্যাচে ছিলেন একেবারেই চেনা ছন্দের বাইরে। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি মাঝমাঠে রীতিমতো রাজত্ব করেছেন। বল পাসের সব রাস্তা বন্ধ করে ফ্রান্সকে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। ফরাসি তারকা এমবাপ্পে ম্যাচে তিনটি শট নিলেও তার একটিও গোলপোস্টে রাখতে পারেননি। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে হলুদ কার্ড দেখতে হয় তাকে। অন্যদিকে ওলিসেকেও বোতলবন্দী করে রাখায় ম্যাচের ৭২ মিনিটে তাকে তুলে নিতে বাধ্য হন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।
ইতিহাস বলছিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ জয়ের রেকর্ড খুব একটা নেই। ফ্রান্সও সেই ধারা ভাঙতে পারেনি। মাঝমাঠ আর রক্ষণের সমন্বয়হীনতায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। এই হারের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভেঙে গেল ফরাসিদের। এখন আগামী শনিবার তাদের খেলতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।
এদিকে নিউ জার্সিতে আগামী রোববার ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে মাঠে নামবে স্পেন। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নির্ধারণ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বজয়ের হাতছানি এখন স্প্যানিশদের সামনে।
মন্তব্য করুন