ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ যাত্রায় শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি ও শীর্ষ নেতারা। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদ কমপ্লেক্সে (গ্রান্ড মোসাল্লা) তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছে এবং আজ কেবল বিদেশি প্রতিনিধি ও মেহমানদের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এই রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা তেহরানে এসে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, যিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন। এছাড়া তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমোন এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাসিনইয়ান নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি ও তুরস্কের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কেডভেট ইলমাজও খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান দুই শক্তি রাশিয়া ও চীনও তাদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এবংচীনের পক্ষে দেশটির ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান হি ওই উপস্থিত থাকছেন। প্রতিবেশী আফগানিস্তান থেকে এসেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং বাণিজ্য বিষয়ক প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গণি বারাদার।
তবে এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে এক ব্যতিক্রমী ও শীতল চিত্র লক্ষ্য করা গেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে। খামেনির এই শেষ বিদায়ে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো গালফ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও তাদের কোনো প্রতিনিধি দল তেহরানে পাঠায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মেনে নেওয়ার বিষয়ে এক ধরনের নীরব দূরত্বের কারণেই এই দেশগুলো খামেনির মৃত্যুতে কোনো আনুষ্ঠানিক শোক বা প্রতিনিধি পাঠানো থেকে বিরত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ভারত থেকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিতা এবং বিহারের শিয়া মুসলিম গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন। এছাড়া ভারতের প্রতিনিধি দলে বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এবং মেহবুবা মুফতিও রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরান গেছেন স্পিকার হাফিজুদ্দিন আহমেদ। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানে অবস্থান করছেন।
আজ বিদেশি মেহমানদের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ হওয়ার পর, আগামীকাল শনিবার থেকে সাধারণ মানুষের জন্য আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন