

ঢাকা: রাজধানীর বনানীতে একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং অপরজন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনের নাগরিক। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে বনানীর আমতলী মোড়ের পশ্চিম পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথম আলো ও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের নাম মো. খালেদ সাইফুল্লাহ (৩৮), যিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সিরাজ মিয়ার বাড়ির মোহাম্মদ রফিক উল্লাহর ছেলে। অন্যদিকে বিদেশি নিহত নাগরিকের নাম মাইকেল, যিনি মালিবাগে অবস্থিত কানাডিয়ান ট্রিলিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে চাকরি করতেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাতে ওই দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে আমতলী মোড় পার হওয়ার সময় একটি কাভার্ডভ্যান পেছন থেকে তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই চালক কাভার্ডভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
"বিদেশি নাগরিক মাইকেল মালিবাগে অবস্থিত কানাডিয়ান ট্রিলিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে চাকরি করতেন। তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার তিনি তার স্কুল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন এবং শনিবার তার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্কুল থেকে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলে করে ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় তার মৃত্যু হয়।" - সালাহউদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বনানী থানা।
দুর্ঘটনার পর বনানী থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। বিদেশি নাগরিক মাইকেলের মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে জানানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তার মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংরক্ষণের (ফ্রিজিং) জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছে থানা পুলিশ। এই ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক কাভার্ডভ্যান ও এর চালককে খুঁজে বের করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজধানীর জনবহুল সড়কে দ্রুতগতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা রোধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। প্রায়ই ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া কাভার্ডভ্যান চালককে আইনের আওতায় আনতে এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে তারা বদ্ধপরিকর।
আরও পড়ুন: গর্ভবতী বিড়ালের মৃত্যু: ক্লিনিক মালিক ও দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নোটিশ