
রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টার (বিএসিসি) নামক পোষা প্রাণীর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় একটি অন্তঃসত্ত্বা পার্সিয়ান জাতের বিড়ালের মৃত্যুর অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিড়ালটির মালিক মো. আবিবুর রহমান আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রথম বাক্যেই স্পষ্ট যে, চিকিৎসকদের পেশাগত অবহেলার কারণে একটি নিরপরাধ প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ মে জন্ম নেওয়া ওই পার্সিয়ান বিড়ালটিকে জন্ম থেকেই গুলশানের ওই সেন্টারে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিড়ালটি গর্ভবতী কি না তা পরীক্ষার জন্য ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ডা. সোলাইমান হোসাইন পরীক্ষা করে জানান যে বিড়ালটি সন্তানসম্ভবা এবং তার স্বাস্থ্য ভালো রয়েছে। তিনি বিড়ালটিকে র্যাবিস ও ফ্লুর টিকা দেওয়ার পাশাপাশি রুচির ওষুধ দেন। পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর বিড়ালের অবস্থার অবনতি হলে মালিক পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিড়ালের অবস্থার চরম অবনতি হলে ডা. জুবায়ের ভিডিও কলে এটিকে সাধারণ বিষয় বলে উড়িয়ে দেন এবং বিড়ালটির পাশে কাপড় রেখে ঘর অন্ধকার করে রাখতে বলেন। পরবর্তীতে রাতে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পর ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিড়ালটি মারা যায়।
লিগ্যাল নোটিশে অভিযুক্ত বিএসিসির মালিক লাবন্য এবং দুই চিকিৎসক ডা. সোলাইমান হোসাইন ও ডা. মো. জুবায়েরের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় নোটিশদাতা তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিড়ালটির মালিক প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে দেখা করে মৌখিক অভিযোগ করলে তিনি অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও নোটিশের বর্ণনায় উঠে এসেছে।
পোষা প্রাণীর চিকিৎসায় এ ধরনের অবহেলা ও পেশাগত দায়িত্বহীনতা রোধে এই লিগ্যাল নোটিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাণী অধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পথ উন্মুক্ত হবে এবং দেশের অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারগুলোর সেবার মান বৃদ্ধিতে এটি চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।